নিউজ বিএনএ ডটকম,চট্টগ্রাম,২৩ এপ্রিল: বিশিষ্ট
সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক সৈয়দ মোস্তফা জামালের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলড়্গে সৈয়দ মোস্তফা
জামাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের
প্রাক্তন সভাপতি ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান বলেছেন, নির্লোভ ত্যাগী সাংবাদিক সৈয়দ মোস্তফা জামাল সমাজের আলোকবতিকা
হিসেবে কাজ করেছেন। সাংবাদিক সৈয়দ মোস্তফা জামাল বহুমুখী প্রতিভার
অধিকারী ছিলেন।
তিনি সাংবাদিকতা ছাড়াও ৫২‘র রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন অবদান রেখেছেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তী
মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জীবন কর্মের উপর অসাধারণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। একই সাথে মঘী স্থানে ইসলাম প্রচার ও সুফীদের ভূমিকার উপর গবেষণা করেছেন। বর্তমান সময়ে তাঁর মত সাংবাদিক খুবই বিরল।
২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের
ইঞ্জিনিয়ার আবদুর খালেক মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের সভাপতি আলহাজ্ব কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে
এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আবু সুফিয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোস্তফা জামালের
কর্মময় জীবনের ভূয়শী প্রশংসা করে বর্তমান সাংবাদিক সমাজে তাঁর জীবন আদর্শকে কাজে লাগিয়ে
দেশের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান।
এতে বিশেষ অথিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক
ইউনিয়নের সভাপতি কবি এজাজ ইউসুফী বলেন, সাংবাদিক সৈয়দ মোসত্মফা জামাল অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহকারী
মহাসচিব হিসেবে সারা বাংলাদেশ সাংবাদিকদের জীবন মানের জন্য সংগ্রাম করেছেন। ঢাকাস্থ চট্টগ্রাম সমিতি তিনি
তিনবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সমিতির উন্নয়নের জন্য জীবন বাজী রেখে কাজ করেছেন। বাংলাদেশে মাতৃভাষা আন্দোলনের কিংবদনত্মীতুল্য প্রতিষ্ঠান ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজ
প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিষ্ঠার ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিভাগীয় সমন্বয়কারি
লায়ন জাফর উলস্নাহ্ এম.জে.এফ স্মরণ সভায় বলেন,
গুণী ব্যাক্তিদেও আদর্শ ও মূল্যায়ন করা না
গেলে এক সময় দেশে গুণী মানুষের সংকট দেখা দেবে।
সভায় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন, চট্টগ্রামে
সাংবাদিকদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক হাউজিং কো-অপারেটিভ
সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে সৈয়দ মোস্তফা জামাল ব্যাপক কাজ
করেছেন। তিনি জাতি ধর্মবর্ণ যে কোন মানুষের দু:খ দূদর্শায় প্রয়াত সাংবাদিক
সবসময় ছুটে যেতেন।
সাপ্তাহিক চাটগার সংবাদ এর সম্পাদক বিশিষ্ট
রাজনীতিক নুরুল আবছার চৌধুরী
বলেন,সৈয়দ মোস্তফা জামাল তার পিতা মৌলভী সৈয়দ সোলতানের
ন্যায় মানবতাবাদী,নিবেদিত সমাজ কর্মী ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে
সৈয়দ ছোলতান একাধিকবার কারাবরণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, দেশ ও নিজজেলা উপজেলার
উন্নয়নে,সাংবাদিকদের কল্যাণে ষেযদ মোস্তফা জামালের অবদান ভুলবার মতো নয়।তিনি
সংবাদপত্রকে গণমানুষের উন্নয়নে ভাগ্য পরিবর্তনে মিডিয়া হিসেবে দেখতেন।জীবনে তিনি
হলুদ সাংবাদিকতা,অপ সাংবাদিকতার কাছেও ছিলেন না বিধায় ব্যক্তিগত ভূসম্পত্তির তিনি
পাহাড় গড়ে যেতে পারেন নি।জীবদ্দশায় মোস্তাফা জামাল বহু সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সাথে
ওতোপ্রোতভাবে জড়িত থেকে নি:স্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন।


আলোচনায় আরো অংশ গ্রহণ করেন সাতকানিয়া
প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মাহফুজুন্নবী খোকন,বিএনএ চীফ রিপোর্টার সাংবাদিক কামাল উদ্দিন খোকন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুর রহিম, বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী,
আল্লামা রুমি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সিরাজ উদ-দৌলা,বনফুল এন্ড কোং এর মহাব্যবস্থাপক আমান উল্লাহ্ আমান,
ড.মুহাম্মদ
সানাউল্লাহ, লায়ন
সৈয়দ মোরশেদ হোসেন, অধ্যাপক শিব প্রসাদ, কবি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ডাঃ আব্দুল গফুর, পুঁথি গবেষক ইসহাক চৌধুরী, জান্নাতুল নাঈম রিকু, তরুণ রাজনীতিক হাজী মোহাম্মদ সেলিম, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন,
নারী নেত্রী রহিমা বেগম, সমতা বড়ুয়া, মনির চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী, কাজল বড়ুয়া বাংলাদেশ
নিউজ এজেন্সি(বিএনএ)এর বিশেষ সংবাদদাতা সৈয়দ মোস্তফা জামালের পুত্র সৈয়দ গোলাম নবী প্রমুখ।
এর আগে ২২ এপ্রিল দিন ব্যাপি সাংবাদিক ও ভাষা সৈনিক সৈয়দ মোসত্মফা জামালের ১০ম
মৃত্যুবার্ষিকী উপলড়্গে সৈয়দ মোস্তফা জামাল ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে মরহুমের গ্রামের বাড়ি
সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়ায় মিলাদ মাহফিল,কোরানখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন ম্ওলানা মোহাম্ম্দ ইসমাইল ও মরহুমের কনিষ্ট ভাই
হাফেজ সৈয়দ মোস্তফা আয়ুব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন